কণাদ – প্রথম পর্ব

কণাদ

টিউবে বসে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো কণাদ। ছাড়লো না….বলা ভালো একটা দীর্ঘশ্বাস পড়লো। কণাদের নিয়ন্ত্রণ ছিলো না।

আসলে একটু অপেক্ষা করতে চাইছিলো কণাদ। মাঝে মাঝে একটু অপেক্ষা করতে মন চায়। ভালোলাগে। স্টেশানে পৌঁছনো মাত্রই টিউবটা এসে দাঁড়ালো। স্টেশানে একটু বসতে ইচ্ছে করছিলো। কিন্তু ট্রান্সমিট স্টেশানে ডিলে বা ইনকগ্নিটো কোনটাই অ্যালাউড নয়!

টুং করে মেধার ফ্রিকোয়েন্সি ইনপুট এল….অত বাজে না ভেবে কাজের কথা ভাব না….অযথা কিউ নষ্ট করিস কেন!

কণাদ গুনগুন করে ওঠে….ইয়ে কিঁউ হুয়া….

মেধার ফ্রিকোয়ন্সি মিলিয়ে গেল। বায়ো অ্যানালিসিস বলছে মেধা রাগ করেছে। হাহাহাহা….

এই এক জ্বালা…কিউ। কথাটা আসলে C.Q। Cosmic Quotient. আদরের ডাকনাম কিউ। মানুষ মাপার একক। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী যে কোন স্থান-সময় দ্বৈতে কিউ অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

নিজেকে সংযত করলো কণাদ। আর আঠান্নো সেকেণ্ডের মাথায় ট্রান্সমিশান শুরু হবে। এই প্রথমবার পৃথিবীতে যাচ্ছে কণাদ। পঞ্চাশ সেকেণ্ডে পরে ইনকগনিটো সিমুলেশান শুরু হবে। কিন্তু তার আগে আছে আরেক বিপত্তি। ঠিক তিন সেকেণ্ডের মাথায় অ্যাপিয়ার করবেন মনু। ঋষি মনু। পৃথিবীর সময়ের হিসাবে খৃষ্টপূর্ব দুহাজার নাগাদ যিনি মনুসংহিতা লিখেছিলেন তিনি।

ওর আসল নাম জেমস। ওর এখন মনুভাব চলছে। দুদিন বাদে যাজ্ঞবল্ক্য হয়ে যেতে পারে। জেমস একজন স্পেশাল হিউম্যান। ওর কিউ প্রায় নব্বই কিন্তু সেটা ও নিজের ইচ্ছামত কাজে লাগাতে পারে না। পুরো এম থার্টিথ্রি তে স্পেশাল হিউম্যানের সংখ্যা ক্রমশঃ বাড়ছে।

জেমস আসার আগে নিজেকে একটু গুছিয়ে নেওয়া দরকার। ব্যাটা পুরো পাঁচসেকেন্ড নষ্ট করবে। পৃথিবী সম্পর্কে ওর অসম্ভব আগ্রহ। আসছেও একটা দুনম্বরী প্রস্তাব নিয়ে। মতিগতি বোঝা দায়। খুব সন্দেহ হয় ও কিউ সিমুলেট করে। যদিও সেটা এখনো কসমিক্যালি পসিব্যল নয়। কিন্তু…

জেমস এর টু লেভেল আপস্প্রিং আর আমার ঠাকুর্দা শো-হাইড তত্ত্বে একসাথে কাজ করতেন। ফলে দুজনেরই এমথার্টিথ্রিতে কিছু বিশেষ সুযোগ সুবিধা আছে। জিন বায়াস। অনট্রান্সমিট এভাবে মিট করা যায় না। কিন্তু শো-হাইড এর জনকের নাতির পক্ষে চাইলে একটু আধটু সিস্টেম ম্যানিউপুলেশান তেমন শক্ত নয়। যতক্ষণ কিউ ইম্প্যাক্ট না হয় ততক্ষণ চিন্তা থাকে না, কিন্তু এই মিটিং টায় দুজনেরই কিউ ইম্প্যাক্ট করবে। কেন যে কণাদ অ্যাপ্রুভ করলো অনট্রান্সমিট মিট! উদ্দেশ্য যাই হোক…

… কসমিক এথিক্স রেশিও ৩৯%। সাজেস্টিভ কিউ ড্রপ দেখিয়েছিলো ২.৫৬ পয়েন্ট। জেমস এর টাইমস্পেস রেফারেন্স-এ কিউ ড্রপ হবে ৪.৭১। তাও ব্যাটা লাফাচ্ছে! মিটিং টা ক্যান্সেল করলে শেষ মুহূর্তে কিছু কিউ বেঁচে যায়। এরপর গোদের ওপর বিষফোঁড়া হলো প্রিসনার্স ডিলেমা ইন্ডেক্স। এটা সরাসরি নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট করবে। আমার প্রথমবার পিডিআই নেগেটিভ। তাই ছাড় আছে। মনুঋষি সেখানেও ঝাড় খাবেন। এই নিয়ে তিনবার পিডিআই ব্রেক হচ্চে জেমস-এর। তাতেও ভ্রুক্ষেপ নেই।

-‘গোদের ওপর বিষফোঁড়া’ ব্যাপারটা কি? দুটো অবসলিট অ্যান্সিয়েন্ট ডিসিজ বলছে। এইচআইভি টাইপের?

–        না মনুবাবু। ওগুলো অত বিপজ্জনক নয়। নিরীহ ছিলো বটে। কিন্তু কাবু করতো বেজায়।

–        তুই বেশি বুঝিস সবই। কসমিক ওয়েব জানে না আর তুই জানিস। নিরীহ ছিলো ত কাবু করতো কিকরে? যত্তসব ফালতু হাইপোথিসিস তোর।

–        তা তোর মনুর হাইপোথিসিস টাই বা কি এমন আভাঁ-গার্দ হচ্চে?

–        আভাঁ-গার্দ!!! এটা তো বলছে আর্থটাইম ১৮২৫ এর টার্ম। এসব শব্দ পাস কোথায় তুই?

–        তুই মনুকে পেলি কোথায়?

–        স্বরোচিষ

–        কি?

–        স্বরোচিষ

–        মানে?

–        …একটা নাম আছে ত নাকি মনুর। তখন থেকে মনু মনু করছিস। মনু একটা স্পিসিস। সেকেণ্ড মনু হল স্বরোচিষ। আর থার্টি ডেজ। প্রায় মেরে এনেছি। আর থার্টি ডেজ এর মধ্যে আমি স্বরোচিষ এ মেটাফর্ম করবো। যদি তুই হেল্পটা করিস।

–        আচ্ছা, তুই তো ওই স্বরচিত মনু নিয়ে আছিস বেশ কিছুদিন…

–        স্বরোচিষ

–        ওই হলো। আচ্ছা, একটা কথা বলতো….শুনেছি মনুস্মৃতি তে আইন আছে কোন শুদ্র ব্রাহ্মণের বিচি ধরে টানলে তার হাত কেটে দেওয়া হত। কেস টা কি জানিস? শুদ্ররা কি সুযোগ পেলেই ব্রাহ্মণের বিচি ধরে টানতো? মানে হঠাৎ ওইরকম একটা আইনের দরকার পড়লো কেন?

–        বিচি টা কিসের?

–        উফ….অণ্ডকোষ….মানে টেস্টিস।

–        ওহ। বৃষণ। তাই বল। বিচি আবার কি কথা? তোদের আর্থ অ্যাক্ল্যামেটাইজেশান প্রোগ্রাম এ এইসব বাজে কথা শেখায় নাকি বলতো? কি জানি কেন? সেবিষয়ে মনুস্মৃতিতে কিছু লেখা নেই। ব্রাহ্মণদের বুদ্ধি হয়তো বিচি তে….স্যরি, টেস্টিস এ স্টোর হতো হয়তো।

জেমস যন্ত্রটা বার করে সামনে রাখলো। আমি যন্ত্রটার নাম দিয়েছি ভ্রামক। গা শিরশির করে ওঠছে। জেমস-এর অনেক দোষ মাথায় রেখেও এ যন্ত্রটা যে আগামী সময়কে অনেক কিছু দিতে পারে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। অথচ ভাবনাটা বেশ সরল।
রোটেশনাল ইকুইলিব্রিয়াম-এর বেসিক প্রিন্সিপল-এর ওপর তৈরি যন্ত্রটা। যেকোন জায়গায় একাধিক টর্ক থাকলে বা পরিবর্তনশীল টর্ক থাকলে তাদের মিলিত ইম্প্যাক্ট ওরফে নেট টর্ক যদি শুণ্য হয় তবে তাকে রোটেশনাল ইকুইলিব্রিয়াম বলে। জেমস কসমিক কোশেন্ট আর রিয়্যাকশান হুইল কে কাজে লাগিয়ে একটা টেম্পোরারি ক্যামাফ্লজ তৈরি করেছে। ভ্রামক কসমিক ওয়েব এর নজরদারি ফাঁকি দিতে পারে।

নো সিন্থেটিক জোন-এ নিয়ে যখন আসতে পেরেছে জিনিসটা তখন আর তাকে হেলাফেলা করা যায় না। কে জানে কি হবে এরপর!

এই সময়টায় মনে হয় বিকেল হত আগে। মেধা শুনেছে পৃথিবীতে আগে সুর্য উঠতো। সন্ধ্যেবেলা যখন সুর্য অস্ত যেত আকাশ লাল হয়ে উঠতো। রঙ পাল্টাতো আকাশ কতবার। ভারি আকাশ দেখতে ইচ্ছে করে। নীল আকাশ। রাঙা। মেঘে মেঘে ঘন কালো আকাশ। মাঝে মাঝে জেমস কে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে। আরো কতরকম অদ্ভুত ইচ্ছে করে।

এরা রিপিটেশান থিয়োরি জানে, মানে…কিন্তু বোঝে না।

তিনহাজার খৃষ্টাব্দে মানুষের ইতিহাসে তিনটে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। প্রথমটা অবশ্যই শো-হাইড থিয়োরি। শো-হাইড থিয়োরির ফসল কসমিক কন্সট্যান্ট পুরো সৃষ্টি এবং স্থিতির ধারণাটাই বদলে দিলো। নতুন করে লেখা হলো জড়বিজ্ঞানের মূল সূত্রগুলো।
দ্বিতীয় ফাইনাল পারমিশান। মানুষ ইতিহাসে প্রথমবার ছেড়ে দিল ব্যক্তিগত গোপনীয়তা।
তৃতীয় রিপিটেশান থিয়োরি। বিজ্ঞানের জগতে নতুন ধাঁধা।

মেধার ঠাকুরদার মা কবিতা লিখতেন। কাগজে পেন দিয়ে লিখতেন। সেটা তিনহাজার সালের কাছাকাছি। তখন মাইন্ড রাইটিং প্রজেক্ট সদ্য এম.আর ২.০ বার করেছে। এম.আর.টুও ব্যবহার করতে গেলে মাস্টারচিপ-এ হার্ডওয়্যার লাগাতে হত। ঠাকুরদার মা রাজি হননি। মেধা শুনেছে তিনি নাকি শেষ বয়সে মাস্টারচিপও খুলিয়ে ফেলেছিলেন। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ডাব্লিউথ্রি ডিসঅর্ডারে মারা যান তিনিও।

আজ মেধার প্রপিতামহী গার্গীর জন্মদিন। রিপিটেশান থিয়োরির পর যাকে কার্যত একঘরে হতে হয়েছিলো।

মেধার খুব ইচ্ছে করে কবিতা লিখতে। কিন্তু এখন আর কবিতা লেখা যায় না। কারন আজ কোন গোপন কথাই আর গোপন নয়। ফাইনাল পারমিশানের সাথে সাথে মানুষ শিল্পসৃষ্টির ক্ষমতাটুকু হারিয়েছে। মেধা অবশ্য একটা উপায় বার করেছে।

কসমিক ওয়েব মাঝে মাঝে এক সেকেণ্ড ড্রপ করে। তখন মানুষ ইনকগনিটো মোডে চলে যায়। সেই সময়ের অনুভুতি কসমিক ওয়েবে ধরা পড়ে না। সে সময় মাইন্ড রাইটার অন থাকলে তাতে কিছু এলোমেলো আঁকিবুকি পড়ে। মেধার কাছে এখন ওই কবিতা।
আজ কিছুতেই কসমিক ড্রপ হচ্চে না।

মেধা লাইব্রেরি থেকে একটা কবিতার বই বার করলো। কবির নামটা অদ্ভুত। যোষা ঋষভ।

বাসা ভালো বিশ্বাসে কুসুমে
রক্তের চারধারে সবুজের দ্বীপ
ছেলেখেলা আজন্ম বুঝে গেলে
তুমি

কুসুমে বিশ্বাসে বাসা ভালো
হলুদ গন্ধ বারুদে গরাদে বিষে
মিশে
অনির্বচনীয়

কসমিক ওয়েব বলছে যোষা ঋষভ ছদ্মনাম। আসল নাম নিবারণ চক্রবর্তী। বা সেটাও ছদ্ম হতে পারে। আর্থটাইম ২০৫৩ তে লেখা হয় এই বই। ডিকোড করতে পারছে না মেধা। পরের লেখা

আচারে প্রচারে মিল
ভুলচুক
নন্দিনী শোনো
লাল রঙ আছে?

নিবারণ চক্রবর্তীও কাগজে লিখতেন। তখনো অবশ্য মাইণ্ড রাইটার আবিস্কার হয় নি।

একটা অ্যাম্বার অ্যালার্ট এলো। কসমিক ওয়েব বলছে সাজেস্টিভ কিউ ড্রপ ১.৫৪। কারন ইল্ল্যজিক্যাল থটস্ট্রীম। এই এক জ্বালা হয়েছে…. কিউ। বেশ করবো উল্টোপাল্টা ভাববো। কার কি আসছে যাচ্ছে? চুলোয় যাক ফাইনাল পারমিশান। আমার ইচ্ছে হয়েছে ভাবতে আমি ভাববো।

অ্যাম্বার অ্যালার্ট টা লাল হলো।

মেধা চিৎকার করে উঠলো – নন্দিনী শোনো, লাল রঙ আছে তোমার কাছে?

একটা বিপ হলো এবার। কিউ ড্রপ করলো ১.৬১।

চিৎকার করে হেসে উঠলো মেধা। আবার অ্যাম্বার অ্যালার্ট। সাজেস্টিভ কিউ ড্রপ ১.৮৯।

শালা, কিউএর বাচ্চা। আবার হাসবো…দেখ। কত ড্রপ করবি? কর।
কসমিক ওয়েবে স্ল্যাং সাজেশান চাইলো মেধা। তেত্রিশ হাজার রেসাল্ট শো করছে।

….
..
বিজ্ঞবৃষণ

এইটা ভারি মজার। শালা বিজ্ঞবৃষণ কিউ…. .. বিগ বিজ্ঞবৃষণ কিউ…. যা মাইনাস করে দিগে যা…

পরের লেখা…

ফ্রিকোয়েন্সি তে জেমস এসেছে – কি হয়েছে তোর?

জেমসের একটা নিজের ঘর আছে। একটা শুনশান ডিকে স্টেশান। কেউ মরে গেলে এইসমস্ত স্টেশানগুলোয় বডি রিসাইকেল করা হয়। এই স্টেশান টায় লোকজন খুব কমই আসে।
যদিও পোস্ট বায়োলজিক্যাল ওয়ার যখন গ্রেট ইভ্যাকুয়েশান হয় তখন থেকেই কারো আর নিজস্ব কোন মালিকানা নেই। যেহেতু এখানে লোকজন আসেনা তাই জেমস মৌরসিপাট্টা গেড়ে বসেছে। এখানে একটা অ্যানালগ ট্রেনিং করায় জেমস। মেটামর্ফিং নিয়ে। মেটামর্ফিং মানে একজন অন্য জনের শরীর ও মন ধারণ করা। মেটামর্ফিং এখনো সম্ভব হয়নি। তবে কণাদ কাজটা করতে পারলে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই একটা রেজাল্ট পাওয়া সম্ভব।

জেমস এর ট্রেনিং এ আসেনা কেউই। প্রথমতঃ, এখন আর অ্যানালগ ট্রেনিং চলেনা। সিমুলেশান ব্যবহার হয় সর্বত্রই। দুনিয়াটাই এখন সিমুলেশান বেসড। তাতে জেমস এর অবশ্য ভালোই হয়েছে। ফার্স্ট লেভেল এলিমিনেশান টা ওইভাবে হয়ে যায় আর কি। প্রায় সত্তর হাজার মানুষ ইন্টেরেস্ট দেখিয়েছিলো। শুরুর কদিন এসেছিলো গোটা তিরিশ। মাস দুয়েক পর থেকে সেটা দাঁড়িয়েছে একজন এ। S33T21.N2Q। ও নিজের কোন নাম রাখেনি। জেমস ওকে বৃহন্নলা বলে ডাকে। অ্যাভারেজ কিউ ৭২.৩৫। নেহাত মন্দ নয়। আর্থটাইম ধরে হিসেব করলে ওর বয়স দাঁড়াবে এখন নয় কি দশ।

–        আসুন স্যর

–        স্যর নয়। ম্যাডাম। আগামী সাতদিন ম্যাডাম।

–        আচ্ছা, আয় বোস। পেলি কিছু?

বৃহন্নলা নিরুত্তর।

মেটামর্ফিং নিয়ে কাজ করা একটু চাপের। এ সময়ে সবারই সব কিছু করার অধিকার আছে কিন্তু মাস ইম্প্যাক্ট থাকলে অটোমেটেড ভোটিং সিস্টেম থেকে পাস হতে হয়। জেমসের প্রোজেক্ট দুবার এভিসি মাইনাস। তাই এবার ও নিয়ে কাজ করলে প্রায় ৫০% কিউ ড্রপ হবে। অবশ্য তাতে আর কোন কালে কোন কাজ আটকেছে! এ বিষয়ে যত কম কথা বলা যায় ততই ভালো। কফি চড়ালো জেমস।

–        তুমি কি সত্যি বিশ্বাস করেন গ্রাফাইট কে ডায়ামণ্ড এ মেটামর্ফ করা যাবে? বৃহন্নলার থটস্ট্রীম ফ্রিকোয়েন্সিতে প্রশ্নচিহ্ন।

–        তোকে কতবার বলেছি না অ্যানালগ ট্রেনিং এ কথা বলবি। থটস্ট্রীম ইউজ করবি না…! এদ্দুর এলি কি করতে তাহলে? কথাই যদি না বলবি। মাসলগুলো এক্টিভ না হলে মেটামর্ফ না ছাই হবে। গালে গোদ হবে বুঝলি?

–        গোদ অ্যাজ ইন ডিজিস গোদ? আর্থ ডিজিস?

–        হ্যাঁ। আর তার ওপর বিষফোঁড়া হবে। এটা কি আমি জানি না। কণাদ কাছে শুনলাম।

কফিটা নিয়ে এসে ওর ঢাউস ইজিচেয়ার টায় বসলো জেমস। এখানটায় সমস্তকিছু অ্যানালগ রেখেছে। অ্যানালগ কলোনি থেকে বাজার করে আনে কফি, কুকিজ, চকোলেট। বৃহন্নলা কফি খায়না। ওর পছন্দ ক্র‍্যাকারস। লেড়ো বিস্কুট।

পছন্দমতো একটা হার্টশেপড ব্রাউন ক্র‍্যাকার নিয়ে আগুনের পাশে সরে বসলো। কড়াৎ করে একটা কামড় দিয়ে বললো-

–        আজ গার্গীর পর থেকে বলবে বলেছিলে..

–        দূর পাগল। এক গল্প কতদিন শুনবি বলতো

–        পাগলী…পাগল নয়

–        উফ। এই আরেক জ্বালা। দিনে দশবার জেন্ডার বদলালে আমি পারবো না হিসেব করে ডাকতে!

–        গার্গী

–        বলবো না। মুড নেই এখন।

–        ঠিক আছে। আমি তাইলে একটা ব্রডকাস্ট করি যে তুমি এখানে কসমিক রুল ক্যামাফ্লজ করছো। কিউ সঙ্গে সঙ্গে জিরো হয়ে যাবে। পিডিআই নেগেটিভ তো আছেই। সোজা ফুস একেবারে।

শালা খচ্চর। একটা আপেল ছুঁড়ে মারলো জেমস। বৃহন্নলা চট করে সেটাকে লুফে নিয়ে ক্র‍্যাকার বানিয়ে ফেললো।
থতমত খেলো জেমস। মেটামর্ফিং!
হাসছে বৃহন্নলা।
শালা…ভার্চুয়াল ম্যাজিক করছে! বিচ্ছু ছোঁড়া কোথাকার!

–        ছুঁড়ি!!!

এইবারে এক্কেবারে সটান চুলের মুঠি ধরেছে জেমস। তোর জেণ্ডারের বারোটা বাজাচ্ছি দাঁড়া। তুই আমাকে ব্ল্যাকমেল করবি!!

টুক করে জেমস এর চেয়ারে টেলিপোর্টেড হয়ে গেল বৃহন্নলা…

–        তোমার কফি ঠাণ্ডা হচ্চে… গল্প অনেকটা বাকি। আজ কিন্তু গ্রেট ইভ্যাকুয়েশান পর্যন্ত বলতেই হবে।

গার্গী রিপিটেশান থিয়োরি প্রকাশ করেন ২৯২২ এ। তখনো পৃথিবীতেই বাস করে মানুষ। তখন শো-হাইড থিয়োরির জন্ম হয়নি। তবে কাজ চলছে পুরোদমে। পৃথিবীতে রোবোটিক্স যুগ প্রায় শেষের দিকে। মানুষ বুঝতে শিখছে মানুষের বিকল্প যন্ত্র নয়। মানুষের বিকল্প উন্নত মানুষ। রোবোটিক্স থেকে মানুষ ঝুঁকে পড়েছে ডিপ মাইণ্ড ইগোটিক্স এর দিকে। বিজ্ঞানের এই নতুন শাখাকে আদর করে ডাকা হত Amour Propre বলে।

মানুষের ইতিহাসে এ সময় টা সম্ভবত সবচেয়ে অশান্ত সময়। বিজ্ঞান, গবেষণা এবং ফলিত দুদিকেই চূড়ান্ত পর্যায়ে। কিন্তু এ.আই – এর পেছনে ছুটে ছুটে ক্লান্ত মানুষ। বারবার বিগড়ে যাচ্ছে এ.আই দিয়ে তৈরি অ্যাডভান্সড হিউম্যান। মোস্ট স্টেবল ভার্শানেরও এরর রেট ৫০% এর কাছাকাছি। ওদিকে কসমোলজি তখনও স্ট্রিং থিয়োরি পেরিয়ে যেতে চাইছে কিন্তু পারছে না। সে সময় স্ট্রিং থিয়োরিকে বলা হল, Trying to solve a single dot with a series of dots. আমরা যেমন একটা মিথ্যেকে ঢাকতে অসংখ্য মিথ্যে বলে ফেলি। তারা এও বুঝতে পারছিলেন অর্থোডক্স পার্টিকল কনসেপ্টও অসীমের কোন সমাধান করতে পারবে না। কিন্তু স্ট্রিং থিয়োরিকে ফেলেও দেওয়া যাচ্ছিলো না তার প্রভাবের জন্য। এ.আই যতটা উন্নত হয়েছিলো তার মূল কারন রেস্ট্রিক্টেড স্ট্রিং মেকানিজম ইন থ্রিডি মডেল। আর.এস.এম। কিন্তু মুশকিল টা হচ্ছিলো দুটো দিকে। একদিনে মানুষের মনের গতিবধির কোন কূল কিনারা নেই। আরেকদিকে সময়কে পেরোনো যাচ্ছে না। বিশ্বের অনুভবের ও জ্ঞানের সীমা আটকে আছে ৪০০ কোটি আলোকবর্ষ পর্যন্ত। তারপর সমস্ত অন্ধকার। বিজ্ঞান বলছে এর থেকে বেশি জানা সম্ভব নয়। কারন সময়। তৎকালীন সময়ের ধারণা নিয়ে এ গণ্ডি পেরনো সম্ভব নয়। অন্যদিকে মাইক্রো লেভেলেও অবস্থা সমান। গাদা সাব-এটমিক পার্টিকল নিয়ে কার্যত হিমসিম খাচ্ছে বিজ্ঞান। ভরের হিসেব তাও মিলছে না। ডার্ক এনার্জি বিজ্ঞানের জগতে রাজত্ব করছে তখনো। অবশ্য ডার্ক এনার্জি অনেকখানি পরিমাপযোগ্য হয়েছে। সে সময় ইউনিভার্স ডিস্ট্রিবিউশান এর অনুমান ছিলো – ব্যারিওনিক ম্যাটার…… প্রায় ১৭%, ডার্ক ম্যাটার, যা কিনা তখন আর ডার্ক নেই…. ২৪%, আর ডার্ক এনার্জি যথারীতি সবচেয়ে বেশি… ৫৯%। এই সময়টাকে বলা হয় বার্থ অফ গ্রেট টার্বুলেন্স। আর্থটাইম ২৯৫০।

হাঁ করে শুনছে বৃহন্নলা। আরেক কাপ কফি ঢাললো জেমস। আর বার করলো একটা চুরুট।
চোখ গোলগোল করে দেখছে বৃহন্নলা। স্মোকিং-এ ৫% কিউ ড্রপ হয়।

–        ভয় পেলি নাকি? আরে পুরো এরিয়াটা ক্যামফ্লজড করে ফেলেছি। এখানে আমি রাজা। ফ্রি ফ্রম কসমিক ওয়েব রিসেপ্টার। শালা, সারাক্ষণ জ্যাঠার মত খবরদারি করে যাবে। মানুষ না রোবট কি ভাবে এরা নিজেদের কে জানে।

–        ফাইনাল পার্মিশান ত দিয়েছি আমরাই

–        আমি ত দিইনি রে ভাই। আমার ঠাকুর্দা দিয়েছিলো।

–        ভাই নয়…..বোন

–        উফ…আবার শুরু করলি!

–        কি হচ্চে এখানে শুনি? ট্রেনিং না আড্ডা?
মেধা এসেছে। বৃহন্নলা ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো মেধাকে। এজন্য ওর একটা চকোলেট বার বরাদ্দ।

–        আমি আর্থ এর গল্প শুনছি। গ্রেট ইভাক্যুয়েশান।

–        সেই তোর একই গল্প… কবার শুনবি আর?

–        তুমিও শোন আমার সঙ্গে…এবার শো-হাইড থিয়োরি শুরু হবে।

–        তুই শোনগা… আমি ঘুমোবো

বৃহন্নলা মেধার পাশে গুঁজে বসলো এলিয়ে।

–        তারপর?

–        তারপর আর কি… তারপর প্রায় পঞ্চাশ বছর মানুষের বুঝতে লাগলো যে আসলে চাবিকাঠিটা আছে মানুষের মনে। ওইখান থেকেই শো-হাইড থিয়োরির শুরু।

–        কফির তলানিটুকু শেষ করলো জেমস।

–        -এরপর মেধা বলবে। আমি আর পারছি না।

–        এই বিনু….ওইসব বাজে গল্প শুনিস না তো। আয় আমি তোকে অন্য একটা গল্প বলি।

–        কিসের গল্প?

–        শোন না আগে।….

ওইই তেপান্তরেরমাঠের ধারে ছোট্ট একটা ঘর ছিলো।

কিন্তু ঘরের দরজা ছিলো বন্ধ। ভিতর থেকে। সব্বার ভারি আগ্রহ কি আছে সে ঘরের ভিতর। বিস্তর কসরৎ করেও সে দরজা আর ভাঙা যায় না।
মাঝে মাঝে ঘরের ভিতর থেকে কেমন সব আওয়াজ শোনা যায়। সে মানুষ, কি জন্তু, কি কোন যন্ত্রপাতির আওয়াজ কিছুই বোঝা যায় না।
সে ভারি অদ্ভুত ঘর বুঝলি…. কেউ বলে তার মধ্যে থাকে চরকাবুড়ি, কেউ বলে কসমিক টেররিস্ট। আসল কথা কেউ জানে না। ঘর কে বানালে, কেন বানালে, থাকে কে, নাকি থাকে না কিচ্ছুটি জানবার জো নেই। কেবল ঘরটা আছে।

–        তাহলে সবাই কি করলো তখন?

–        তখন ভারি একটা মজার কাজ করলো সবাই। সব্বাই মিলে সে ঘরের নাম দিতে লাগলো বিভিন্নরকম। যার যা মন চায়। ভালোবাসে। ভিতরের আওয়াজগুলোরও নাম দিলো রঙবেরঙের।

–        তারপর?

–        তারপর এর দেওয়া নাম তার পছন্দ হলো না। তার দেওয়া নাম পছন্দ হলো না এর। ব্যস….লেগে গেল মারমারকাটকাট যুদ্ধ

–        যুদ্ধ? বায়োলজিক্যাল ওয়ার?

–        ওই দেখলি তো? আবার একটা নাম দিয়ে ফেললি?

গার্গী যখন তার নিজের প্রিন্ট ম্যাগাজিনে রিপিটেশান থিয়োরী সম্বন্ধে প্রথম লেখেন তখন নাম দিয়েছিলেন Repetitio mater studiorum est । ওনার অনুরাগীরা আদর করে ডাকনাম দিয়েছিলো Amour De Soi । জেমস ভাবলো.. আহা, কয়লা কে ডায়ামণ্ড বলে ডাকলে যদি ডায়ামণ্ড হয়ে যেত…..

গুনগুন গলায় গান ধরেছে মেধা…বিনু ওর কোলের কাছে গুটিসুটি

এই আসা যাওয়ার খেয়ার কূলে আমার বাড়ি…

( ক্রমশঃ...)

Rishi

Saptarshi is a self-taught multi-discipline performer with major focus on fine art Photography. He brings his legacy of aesthetic experience from painting, music, literature and theatrics. He is working on Photography as visual art form for over a decade. He specializes both in technical and aesthetic aspects of Photography. Saptarshi worked as Human Resource Manager in a reputed multinational for 12 years before he stepped into Photography mentoring as full time profession in 2016. He has worked as HOD of Film & Photography division at Indian Institute of Digital Art and Animation. He also works as offcial mentor for Tamron, a leading lens manufacturer. He loves to explore new horizons and lifestyles which is a keynote to his photography works as well.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *