পদ্মপাতা

সিকদারবাগানের সেই কেল্লার মত বাড়িটার পাশে ওইরকম এক শ্যাওলারঙের বারান্দা আছে। হাঁটতে হাঁটতে সেখানে খানিক বসেন মধুকর। ওই বারান্দাটায় বসলে নিজেকে কেমন জমিদার বোধ হয়। পাশ দিয়ে মানিপ্ল্যান্টের ঝাড় নেমেছে। আলো পড়ে এলে ছায়াগুলো কেমন হৃদয়ের মত ঝুলে থাকে।

Read more

পাতাঝোরা

শিউলির চোখ থেকে গড়িয়ে পড়লো একফোঁটা কেন্দ্রীভুত সময়। গড়িয়ে পড়লো ঘাসের ডগায়। ক্ষণিকের জন্য পৃথিবীর সমস্ত রঙ মেখে নিয়ে হারিয়ে গেল নিঃশব্দে। ঠিক তখনই আকাশ ঘড়ি দেখলো। গোধুলিতে থেমে আছে রোদ। ফেলে দেওয়া কলার খোসা থেকে বোঁ বোঁ শব্দে উড়ে গেলো মাছিগুলো।

Read more

কণাদ – প্রথম পর্ব

টিউবে বসে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো কণাদ। ছাড়লো না….বলা ভালো একটা দীর্ঘশ্বাস পড়লো। কণাদের নিয়ন্ত্রণ ছিলো না।
আসলে একটু অপেক্ষা করতে চাইছিলো কণাদ। মাঝে মাঝে একটু অপেক্ষা করতে মন চায়। ভালোলাগে। স্টেশানে পৌঁছনো মাত্রই টিউবটা এসে দাঁড়ালো। স্টেশানে একটু বসতে ইচ্ছে করছিলো। কিন্তু ট্রান্সমিট স্টেশানে ডিলে বা ইনকগ্নিটো কোনটাই অ্যালাউড নয়!

Read more

শুভ বিজয়া

জীবনের গল্প এক জিনিস আর গল্পের মত জীবন আরেক। দুটোই সত্য বটে তবে স্বাদু ফারাক কিছু হয়তো থাকে। হয়তো বা থাকে না। সদানন্দ ভাবলেন ব্যাপারটা প্রতক্ষ্য করে দেখবেন।

Read more

শুভ মহালয়া

তারপর আস্তে আস্তে চোখে পড়তে লাগলো আরেকটা কোলকাতা। যা গ্রামে বড়ো হওয়া একজনের কাছে বড় অশ্লীল মনে হল। প্রথম প্রথম মাত্রাটা কিছু সহনীয় ছিলো। যা দেখছিলাম, তা বৃহৎ হওয়ার অবশ্যম্ভাবী কুফল বলে মেনে নিচ্ছিলাম হয়তো। হয়তো ভাবছিলাম শহরটাকে ত চিনি না ভালো করে এখনো। এ শহর রত্নসম্ভবা। এর কাছে প্রচুর পাওয়ার আছে। অনেকটা মা-এর মত। তবু চোখ আটকে যাচ্ছিলো কিছু দৃশ্যে। যেগুলো ইঙ্গিত করছিলো কোথাও একটা গভীর ক্ষত আছে এই শহরের। একটা নীরব অভিযোগ আছে। হয়তো অভিমান। চিনতে পারছিলাম না।

Read more

পুতুল খেলা

কপালের ওপর দুশ্চিন্তার স্বেদবিন্দুর মতো মরা বিকেলের রোদ এসে পড়েছে গ্লাসের কানায়। পর্দার একফালি ফাঁক দিয়ে একসার আসবাবপত্রকে আলগোছে টপকে এককোনায় টেবিলের ওপর অপাংক্তেয় গ্লাসখানাই জিতে গেলো শেষে। নিরঙ্কুশ ঘটনা কিছু নেই জীবনে। সমস্তই সমাপতন বুঝি। ফিরে যাওয়া ঢেউয়ের মতো আস্তে আস্তে আলো সরে যাচ্ছে ঘর থেকে।

শুক্তির মনে হলো শুধু এখনই বলা যায়। ঠিক এই মুহুর্তেই।

Read more

নিখিলেশ এবং

তখন নিখিলেশ ভাবলেন এবার পাখি পুষবেন। অনেক কথা হল। কাজও হল অনেক। বাগানের সমস্ত গাছ বাঁচিয়ে রাখা যায় না যখন তখন ফলের কথা ভেবে লাভ কি। তখন নিখিলেশ ভাবলেন এবার পাখি পোষা যাক।

একটা ডিমের মত গোল লোক তাকে একবার একটা আপেলের চারা দিয়েছিল। বাগানে লাগানোর জন্য। তা সেই আপেল চারার ইস্তেহার শুনে পাড়ার উকিল বললেন সমতলে আপেল গাছ হতে পারে, আপেল কিন্তু পাহাড়েই হবে। কথাটা নিখিলেশের মাথায় ঢোকেনি। রান্নাঘরের পাশে আপেল গাছ লাগালে ফল হবে উত্তর পাহাড়ে?

Read more